ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না ইউরোপের দুই প্রভাবশালী রাষ্ট্র যুক্তরাজ্য ও জার্মানি। দেশ দুটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই অঞ্চলে চলমান সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

যুক্তরাজ্যের অবস্থান: “সংঘাত এড়াতে চায় ডাউনিং স্ট্রিট”
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক সংবাদ সম্মেলনে সাফ জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি বৃহত্তর যুদ্ধেও রূপ নেয়, তবুও যুক্তরাজ্য সেখানে সরাসরি অংশ নেবে না। ডাউনিং স্ট্রিটে আয়োজিত ওই সম্মেলনে তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা বিভিন্ন বিকল্প পথ খতিয়ে দেখছেন।

উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সচল করতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের কারণে বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

স্টারমার আরও যোগ করেন, নিজের এবং মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলেও যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই বড় পরিসরের যুদ্ধে জড়াবে না। বর্তমানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় অংশীদার এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ব্রিটিশ জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর তার তত নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জার্মানি: “এটি ন্যাটোর যু*দ্ধ নয়”
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কোনো সামরিক উদ্যোগে অংশ নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে জার্মানি। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের মুখপাত্র স্টেফান কর্নেলিয়াস বার্লিনে সাংবাদিকদের জানান, এই যুদ্ধের সঙ্গে ন্যাটোর কোনো আইনি বা কৌশলগত সম্পর্ক নেই।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট, যার মূল দায়িত্ব সদস্য দেশগুলোর ভূখণ্ড রক্ষা করা। এটি ন্যাটোর কোনো যু*দ্ধ নয়।”

জার্মানি আরও অভিযোগ করেছে যে, এই যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র বা ই*স*রায়েল তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা পরামর্শ করেনি। ফলে হরমুজ প্রণালি সচল রাখার সামরিক অভিযানেও জার্মানি শামিল হবে না।

মোটিভেশনাল উক্তি

By sharif

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *