মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার ভোরে হুমকি দিয়েছেন যে, তেহরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দিলে তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হা*ম*লা চালাবেন, যার শুরুটা হবে “সবচেয়ে বড় স্থাপনাগুলো থেকে”। অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়েছে যে তারা মার্কিন ও ই*স*রা*য়েলি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে এর প্রতিশোধ নেবে।
নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন: “যদি ইরান কোনো হুমকি ছাড়াই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড়টি থেকে শুরু করে এর জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হা*ম*লা চালিয়ে তা ধ্বংস করে দেবে।”
খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাগারির মাধ্যমে ইরান এর জবাব দিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের জ্বালানি ও শক্তি অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ই*স*রা*য়েলের “সমস্ত জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং লবণাক্ত পানি পরিশোধন অবকাঠামোর” ওপর হা*মলা চালানো হবে।
রবিবার এর আগে, ট্রাম্প দাবি করেন যে যুক্তরাষ্ট্র “ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে দিয়েছে” এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে।
২ মার্চ, চলমান মার্কিন-ই*স*রা*য়েলি হা*ম*লার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে এবং সতর্ক করে যে, সমন্বয়হীনভাবে এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল চলাচল করে এবং এই চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় জাহাজ চলাচল ও বীমার খরচ বেড়েছে, তেলের দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উদ্বেগ তীব্রতর হয়েছে।
শুক্রবার, ট্রাম্প এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে এর সুরক্ষার দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানান এবং বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র এই পথের ওপর নির্ভরশীল নয়।
তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন ওয়াশিংটন সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রণালীটির সামুদ্রিক যান চলাচল সুরক্ষিত করার জন্য একটি ব্যাপক আন্তর্জাতিক জোট গঠনে হিমশিম খাচ্ছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ই*স*রা*য়েল ইরানের বিরুদ্ধে একটি সামরিক অভিযানে লিপ্ত রয়েছে, যেখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ শত শত মানুষ নি*হ*ত হয়েছে এবং তেহরান এর জবাবে অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রো*ন হা*ম*লা চালিয়েছে।
মোটিভেশনাল উক্তি