পারমাণবিক অ*স্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি (NPT) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে যু*দ্ধবিধ্বস্ত ইরান। সোমবার (৩০ মার্চ) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমায়েল বাগায়ি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রুশ বার্তা সংস্থা এবং এসএনএন (SNN) টিভি-র বরাতে এই খবরটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

কেন এই চুক্তি ছাড়তে চায় তেহরান?
মুখপাত্র এসমায়েল বাগায়ি বলেন, “এনপিটি থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টি বর্তমানে আমাদের পার্লামেন্টে গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে। যদি আন্তর্জাতিক পক্ষগুলো আমাদের এই চুক্তির ন্যায্য অধিকার ও সুবিধা ভোগ করতে না দেয়, তবে এতে যুক্ত থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।” যদিও তিনি পুনরায় স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান কখনও পারমাণবিক অ*স্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি এবং এখনও করছে না।

এনপিটি (NPT) কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
১ জুলাই ১৯৬৮ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বে পারমাণবিক অ*স্ত্রের বিস্তার রোধ করা। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ১৮৯। এই চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হলো:
১. শান্তিপূর্ণ ব্যবহার: পারমাণবিক শক্তি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন, চিকিৎসা ও গবেষণায় ব্যবহার নিশ্চিত করা।
২. অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব: ধাপে ধাপে পার*মাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর অ*স্ত্রের মজুদ কমিয়ে আনা।
৩. তদারকি: সদস্য দেশগুলো আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) নিয়মিত তদারকিতে থাকা।

আগ্রাসনের মুখে কঠোর অবস্থান
ইরানের সংসদ সদস্য আলাআদ্দিন বরুজেরদি উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ই*স*রায়েলি ভয়াবহ আ*গ্রাসনের পর এনপিটি-তে ইরানের অবস্থান নিরর্থক হয়ে পড়েছে। পার্লামেন্টের অধিকাংশ সদস্যই এখন এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে মত দিচ্ছেন।

ইরানের পারমাণবিক ইতিহাস ও খামেনির ফতোয়া
শুরু: ১৯৫০-এর দশকে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু হয়।

চুক্তি: ১৯৬৮ সালে ইরান এনপিটি-তে স্বাক্ষর করে এবং ১৯৭০ সালে তা অনুমোদন পায়।

বিপ্লব উত্তর পরিস্থিতি: ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত হলেও আশির দশকের শেষ দিকে তা পুনরায় শুরু হয়।

ফতোয়া: ২০০৩ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি একটি ঐতিহাসিক ফতোয়া জারি করেন, যেখানে পারমাণবিক অ*স্ত্র তৈরিকে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে বর্তমান যু*দ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান যদি সত্যিই এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যসহ সমগ্র বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে এক ভয়াবহ মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মোটিভেশনাল উক্তি

By sharif

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *