মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ই*স*রা*য়েল যু*দ্ধে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনী কোনোভাবেই সরাসরি জড়াবে না।
ব্রিটিশ সেনা না পাঠানোর ঘোষণা
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, “ইরানের ভূখণ্ডে ব্রিটিশ কোনো বাহিনী প্রবেশ করবে না।” মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “এই যুদ্ধ আমাদের নয় এবং আমরা এতে কোনোভাবেই অংশ নেব না।”
প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা ও জাতীয় স্বার্থ
সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও, যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্টারমার জানান, ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবন রক্ষা, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ‘প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ গ্রহণ করছে লন্ডন।
হরমুজ প্রণালি ও অর্থনৈতিক উদ্বেগ
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধমনী হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় সচল করতে এবং সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন নিরাপদ রাখতে যুক্তরাজ্য কূটনৈতিক ও কৌশলগত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। তবে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, এসব পদক্ষেপের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাজ্য এই সরাসরি যু*দ্ধে জড়িয়ে পড়ছে।
কূটনৈতিক গুরুত্ব
বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের এই ‘নিরপেক্ষ’ বা ‘দূরত্ব বজায় রাখা’র নীতি ই*স*রায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ই*স*রায়েল মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের জোট গঠনের চেষ্টা করছে, তখন কিয়ার স্টারমারের এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।