নানা রকম উদ্যোগ নেওয়া হলেও ডলারের বাজারে শৃঙ্খলা ফেরেনি। ডলারের বাজারে সরবরাহও খুব একটা বাড়েনি। ব্যাংকে নির্ধারিত দরে ডলার পাওয়া না গেলেও ব্যাংকের বাইরে বাড়তি দরে ডলার ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে। অনেক দিন ধরে ডলারের একক রেট চালুর চাপ দিয়ে আসছেন আইএমএফ ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু অজানা কারণে সরকার তা চালু করতে পারছে না।

চলমান এ সংকট উত্তরণে ডলারের একক রেট নীতি কার্যকর করা এবং সরবরাহ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন মুদ্রাবাজার বিশেষজ্ঞরা। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখনো ১৮ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। আগামী বছর থেকে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ দুই গুণের বেশি বাড়বে। ফলে সামনের দিনগুলোতে ডলারের চাহিদা কখনই কমবে না। এ খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সরবরাহ বাড়াতে না পারলে সংকট আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপে ডলারের বিপরীতে টাকার মান এক ধাপে প্রায় ৭ টাকা কমানো হয় গত ৮ মে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে ১১৭ টাকায় প্রতি ডলার বিক্রি হওয়ার কথা। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্য ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইটেও ডলারের সর্বোচ্চ দর ১১৭ টাকা দেখানো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে ব্যাংকগুলোতে এই দরে ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা এখনো ব্যাংকের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে পারছেন না। খোলাবাজারেও ডলারের সংকট কাটছে না।

দর এখনো চড়া। গতকালও খোলাবাজারে প্রতি ডলার ১২০-১২২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এমনকি বিদেশ ভ্রমণের জন্য কোনো ব্যাংক থেকে ডলার অ্যান্ডোর্স করতে চাইলে তা করে দিচ্ছে। অথচ ডলার দিচ্ছে না। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো ডলার দিতে পারছে না। দিলেও দাম বেশি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমন ঘটনাও ঘটছে যে, কোনো ব্যক্তি বিদেশ ভ্রমণের জন্য ব্যাংক থেকে ডলার নিতে চাইলে কর্মকর্তারা গ্রাহকদের চাহিদামতো ডলার দিতে পারছেন না। উল্টো গ্রাহকদের খোলা বাজার থেকে ডলার সংগ্রহের ব্যাপারে উৎসাহ দিচ্ছেন। এটা অবশ্য অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে।

গতকালও প্রথম প্রজন্মের একটি বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান শাখায় এমন ঘটনা ঘটেছে। বাবুল সরকার (ছন্দনাম) নামের একজন বায়িং হাউস ব্যবসায়ী বিদেশ ভ্রমণের জন্য ডলার খুঁজছিলেন। তার প্রয়োজন ছিল ৩ থেকে ৪ হাজার ডলার। কয়েকটি ব্যাংক ঘুরেও তিনি তা ম্যানেজ করতে পারেননি। এর আগে চলতি মাসের প্রথম দিকেই এমন ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি।

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী (বায়িং হাউস)। তিনি ব্যবসায়িক কাজের জন্য আমেরিকা যাবেন। তাকে সেখানে বেশ কিছুদিন থাকতে হবে। এ জন্য বেশ কিছু ডলারের প্রয়োজন। নিজে ব্যবসায়ী হওয়া সত্ত্বেও গত প্রায় এক মাস ধরে ৫ হাজার ডলার জোগাড় করতে তাকে বেগ পেতে হচ্ছে। যদিও তিনি নিজেও একজন রপ্তানিকারক। নিজের অর্জিত রপ্তানি আয়ের অর্থও ব্যাংক থেকে সময়মতো তুলতে পারছেন না। ফলে পড়েছেন উভয় সংকটে। একদিকে ডলার সংকট। অন্যদিকে বিদেশ ভ্রমণ করাও অনেক জরুরি।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সবখানে একটা জবাবদিহিতার বিষয় থাকা জরুরি। শক্ত জবাবদিহিতা ছাড়া কোথাও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয় বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন... জীবন নিয়ে উক্তি