ইরান ই*সরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার কঠোর প্রতিশোধ নিচ্ছে। ই*সরায়েলি ভূখণ্ডের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রায় সব স্থাপনায় আঘাত হেনেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে সাইপ্রাস।
ভৌগোলিকভাবে পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত এই ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রের দিকে ইরান দুটি ক্ষে*পণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ইরান সাইপ্রাসের দিকে ক্ষে*পণাস্ত্র ছুড়েছে—যেখানে ব্রিটিশ সেনা মোতায়েন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষে*পণাস্ত্রগুলো উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্রিটিশ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে তিনি জানান, ‘আমরা মোটামুটি নিশ্চিত যে আমাদের ঘাঁটিগুলোকে সরাসরি লক্ষ্য করে এগুলো ছোড়া হয়নি।’ হিলি এই হা*মলাকে ‘বিবেচনাহীন’ বলে বর্ণনা করেন এবং বলেন, ইরানের প্রতিশোধমূলক আ*ক্রমণগুলো ক্রমশ অন্ধ ও ব্যাপক হয়ে উঠছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাহরাইনে আক্রান্ত স্থানের কাছাকাছি প্রায় ৩০০ ব্রিটিশ সেনা মোতায়েন ছিলেন।
ই*সরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভি*যানে ইরানে ক্ষে*পণাস্ত্র হামলার একদিন পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী সকালের সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। এর আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছিলেন, রক্ষণাত্মক অ*ভিযানের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুক্তরাজ্য যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।
সাইপ্রাস কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য?
হ্যাঁ, সাইপ্রাস ভৌগোলিকভাবে পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত হলেও ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে নিজেকে ইউরোপের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। এটি ২০০৪ সালের ১ মে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দেয়। ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এটি ইউরো মুদ্রা গ্রহণ করে এবং বর্তমানে ইউরোজোনের সদস্য।
সাইপ্রাসে আ*ক্রমণের সম্ভাব্য কারণ কী?
সাইপ্রাসের সঙ্গে ই*সরায়েলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সেখানে ই*সরায়েলের বিপুল বিনিয়োগ ও সম্পত্তি আছে। তেল আবিবে হা*মলার আশঙ্কা দেখা দিলে ই*সরায়েলি বিমানবহরসহ গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সাইপ্রাসে সরিয়ে নেয়ার কথা প্রচলিত। এ কারণে অনেকে সাইপ্রাসকে ‘ই*সরায়েলের গুদামঘর’ বলে থাকেন। গত বছরের জুন মাসের ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও ইরান সাইপ্রাসে হামলা চালিয়েছিল।