ইরান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সব ধরনের খাদ্য ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে। আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, সরকারি বিবৃতি অনুসারে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
মূল কারণ ও প্রেক্ষাপট:
সরকারের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, জনগণের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ও সংবেদনশীল পণ্যের সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। চলমান যু*দ্ধের (ই*সরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে) কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে খাদ্য সরবরাহ স্থিতিশীল রাখাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
ইরান ফলমূল, সবজি, মশলা ইত্যাদি কৃষিপণ্যের একটি বড় রপ্তানিকারক দেশ, যা প্রধানত পারস্য উপসাগরীয় দেশ, এশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে যায়। এই নিষেধাজ্ঞা এসব অঞ্চলে সরবরাহ চেইনে প্রভাব ফেলতে পারে।
যু*দ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়েছে:
ব্রেন্ট ক্রুড (আন্তর্জাতিক মানদণ্ড): মঙ্গলবার ৭-৮% এর বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৩-৮৫ ডলার (সর্বোচ্চ ৮৫.১২ ডলার) ছুঁয়েছে, যা জুলাই ২০২৪-এর পর সর্বোচ্চ।
ডব্লিউটিআই (যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সূচক):
৭% এর বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৬-৭২ ডলার এর আশেপাশে।
কারণ: হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ও ইরানের পাল্টা হামলায় (যেমন উপসাগরীয় দেশে জ্বালানি অবকাঠামোতে আক্রমণ) সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রণালিটি বিশ্বের প্রায় ২০% তেল ও এলএনজি পরিবহন করে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) এটিকে “বন্ধ” ঘোষণা করে যেকোনো জাহাজ পার হলে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে (কিছু অনুমানে ১০০-১৫০ ডলার পর্যন্ত), যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। এছাড়া সার (ফার্টিলাইজার) ও খাদ্যমূল্যও প্রভাবিত হতে পারে।
মোটিভেশনাল উক্তি