স্পেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘দাস’ হবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন স্প্যানিশ উপ-প্রধানমন্ত্রী মারিয়া জেসুস মন্টেরো। তিনি বলেছেন, “আমরা নিশ্চিতভাবে কারও দাস হব না। কোনো হুমকি বরদাশত করব না এবং নিজেদের মূল্যবোধ রক্ষা করব।”
প্রেক্ষাপট ও ঘটনা:
এই মন্তব্য এসেছে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ই*সরায়েল যুদ্ধের (যা ২৮ ফেব্রুয়ারি/১ মার্চ ২০২৬ থেকে শুরু) মধ্যে। স্পেন যুক্তরাষ্ট্রকে তার সামরিক ঘাঁটি (Rota নৌঘাঁটি এবং Morón বিমানঘাঁটি) ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে (Operation Epic Fury) ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। এই ঘাঁটিগুলো যৌথভাবে পরিচালিত হলেও স্পেনের সার্বভৌমত্বের অধীনে রয়েছে।
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসে ম্যানুয়েল আলবারেস বলেছেন, “স্প্যানিশ ঘাঁটিগুলো এই অভিযানে ব্যবহার করা হয়নি এবং ভবিষ্যতে জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কাজে ব্যবহার করা হবে না।”
এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমরা স্পেনের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য করব না। স্পেন ভয়ঙ্কর অংশীদার।” ট্রাম্প এছাড়া ন্যাটোর ৫% জিডিপি প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্য পূরণ না করায় স্পেনকে সমালোচনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ১৫টি বিমান (রিফুয়েলিং ট্যা*ঙ্কারসহ) এই ঘাঁটি থেকে সরিয়ে নিয়েছে।
স্পেনের অবস্থান:
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগেই বলেছেন যে, এই অভিযান “অন্যায় ও বিপজ্জনক সামরিক হ*স্তক্ষেপ” এবং এটি আন্তর্জাতিক আইন ল*ঙ্ঘন করে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে “বড় ধরনের বিপর্যয়” ডেকে আনতে পারে এবং “রাশিয়ান রুলেট” খেলার মতো মিলিয়ন মানুষের জীবন নিয়ে খেলা চলছে।
সানচেজ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে বলেছেন: “স্পেন সরকারের অবস্থান চারটি শব্দে সারাংশ করা যায়—না যু*দ্ধের। আমরা কারও প্রতিশোধ এড়ানোর জন্য এমন কোনো কর্মকাণ্ডে সহযোগী হব না যা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর বা আমাদের মূল্যবোধ ও স্বার্থের বিরোধী।”
প্রভাব:
অর্থনৈতিক: স্পেন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বছরে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের। হুমকি কার্যকর হলে স্পেনের অর্থনীতিতে (বিশেষ করে পর্যটন, কৃষি, শিল্প) বড় ধাক্কা লাগতে পারে। ইইউ-এর অংশ হিসেবে এটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককেও প্রভাবিত করবে।
ইউরোপীয় প্রতিক্রিয়া: ইইউ নেতারা ট্রাম্পের হুমকিকে “অসহযোগিতামূলক” বলে নিন্দা করেছেন এবং স্পেনকে সমর্থন জানিয়েছেন। ফ্রান্স ও জার্মানি একই অবস্থান নিয়েছে।
যু*দ্ধ এখন ষষ্ঠ দিনে (৪ মার্চ ২০২৬), ইরানের পাল্টা হামলা চলছে। স্পেন যু*দ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ভেটোর হুমকি দিয়েছে।
এই ঘটনা ন্যাটো জোটের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করছে এবং ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে নতুন চাপে ফেলেছে। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে—আরও উন্নয়ন আসতে পারে।
মোটিভেশনাল উক্তি