আরব ও ইসলামি দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর ওপর ইরানের হা*মলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার রিয়াদে অনুষ্ঠিত একটি পরামর্শমূলক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর এই বিবৃতিটি আসে, যেখানে আজারবাইজান, বাহরাইন, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রীরা একত্রিত হয়েছিলেন।
মন্ত্রীরা ব্যা*লি*স্টিক ক্ষে*প*ণাস্ত্র ও ড্রো*ন ব্যবহার করে আবাসিক এলাকা এবং তেল স্থাপনা, লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্র, বিমানবন্দর, আবাসন এলাকা ও কূটনৈতিক মিশনসহ বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো ইরানের ইচ্ছাকৃত হাম*লার নিন্দা করেছেন।
তারা জোর দিয়ে বলেন যে, এই ধরনের হামলা “কোনো অজুহাতেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না” এবং জাতিসংঘের সনদের ৫১ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রসমূহের আত্মরক্ষার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
উত্তেজনা প্রশমন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বৈঠকে ইরানকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করতে, আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনকে সম্মান করতে এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
অংশগ্রহণকারীরা জোর দিয়ে বলেন যে, ইরানের সাথে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোকে হুমকি দিতে সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার থেকে বিরত থাকার উপর।
তারা ইরানকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৮১৭ (২০২৬) নম্বর প্রস্তাব মেনে চলতে, অবিলম্বে সকল হামলা বন্ধ করতে এবং হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচল বন্ধ বা ব্যাহত করার হুমকি কিংবা বাব আল-মানদেবে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করার মতো যেকোনো উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড এড়িয়ে চলতে আহ্বান জানান।
মন্ত্রীরা ইরানকে আরব দেশগুলোতে তাদের সহযোগী মিলিশিয়াদের সমর্থন, অর্থায়ন এবং অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিনিময়ে ইরানের স্বার্থ রক্ষার কাজ হিসেবে বর্ণনা করেন।
বৈঠকে লেবাননের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং ভূখণ্ডগত ঐক্যের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয় এবং লেবানন রাষ্ট্র যাতে তার ভূখণ্ডের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও অ*স্ত্রের উপর একচেটিয়া অধিকার বজায় রাখতে পারে, সেই প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানানো হয়।
একই সাথে, মন্ত্রীরা লেবাননের উপর ইসরায়েলি হামলা এবং এই অঞ্চলে দেশটির সম্প্রসারণবাদী নীতির নিন্দা জানান।
তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে, নিজেদের অবস্থান সমন্বয় করতে এবং নিজেদের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও চলমান ইরানি আগ্রাসন বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ও আইনসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ঘনিষ্ঠ আলোচনা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন।
মোটিভেশনাল উক্তি