ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে দেশটিতে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। স্বাধীন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ইন্টারনেট সংযোগে ব্যাপক ও আকস্মিক হ্রাস দেখা গেছে, যা প্রায় দেশব্যাপী শাটডাউনের ইঙ্গিত দেয়। এই অবস্থায় মোবাইল ও ফিক্সড-লাইন—উভয় ধরনের ইন্টারনেট পরিষেবাই গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানে সংযোগ পুনরুদ্ধারের সম্ভাব্য উপায় হিসেবে তিনি স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। উল্লেখ্য, মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিংক পরিচালনা করে।

এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক সীমিত বা বন্ধ হয়ে গেলে স্টারলিংক টার্মিনাল বিকল্প ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কর্মকর্তারাখুব শক্তিশালী বিকল্পগুলো” পর্যালোচনা করছেন। তবে এসব বিকল্পের বিস্তারিত এখনো চূড়ান্ত নয় এবং পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল বলে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ বা সীমিত করার ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় তথ্যের আদান-প্রদান ও সংগঠনের সক্ষমতা কমিয়ে দিতে একাধিকবার ইন্টারনেট শাটডাউন জারি করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্টারলিংকের মতো স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড প্রযুক্তির ব্যবহার সরকার আরোপিত ইন্টারনেট বন্ধ এড়াতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। একই সঙ্গে এটি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ, সার্বভৌমত্ব ও প্রযুক্তির কৌশলগত ব্যবহারের বিষয়ে জটিল প্রশ্নও সামনে আনছে।

মোটিভেশনাল উক্তি

By rasna

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *